Thursday, December 7, 2006

Singur OR Nothing

Tataদের সিঙ্গুর ছাড়া অন্য কোথাও জায়গা দেওয়া যেত কি ? Tataরা অন্যান্য কোম্পানি থেকে বেশ অালাদা। ওদের কোনো কারখানা অন্যদের মতন যখন তখন বন্ধ হয় না। শ্রমিক সমস্যা লেগে থাকে না বা বন্ধ হয়ে যায় না। Tataদের কলকারখানা পরিচালনা করার ক্ষমতা অন্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক উঁচু মানের। তাই এখানে কারখানা (অথবা Car-খানা) করার জন্য বাংলা সরকারকে Tataদের অনেক বোঝাতে হয়েছে। পশ্চিমবাংলায় কোনো শিল্পপতি লগ্নি করতে চায় না কারন এখানে শিল্প গড়ার মতন পরিবেশের অভাব।

এমতাবস্থায় Tata যখন ১ লাখ টাকার গাড়ি কারখানা করতে চাইছে, তখন এ রাজ্যের সরকারকে তাদের কিছু দাবী তো মানতে হবেই। ওড়িষ্যা বা উত্তরপ্রদেশের সরকার ওদিকে জমি দেওয়ার জন্য তৈরী। সর্বপরি বাংলায় শিল্পের হাওয়া যখন ভালো ভাবে বইতে শুরু করেছে, তখন এটাই তো উপযুক্ত সময়।

গাড়ি কারখানা একটা হলে অারো যানবাহন সংক্রান্ত কল কারখানা তৈরী হবে, competitive market তৈরী হবে। স্বাভাবিকভাবে সরকার শুরুটা ভালোভাবে করতে চাইছে। তাছাড়া গাড়ি কারখানার সাথে সাথে অানুষঙ্গিক অারো অনেক কল কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য হবে এবং এই বিশাল প্রকল্প কলকাতার কাছে হলে ব্যবসাএ সুবিধে হবে। ওরা যে হাজার হাজার কোটি জাকা লগ্নি করতে চলেছে তার লাভ তো তুলবেই। সিঙ্গুর জায়গাটা দুর্গাপুর express highway এর উপরে অার সেই সঙ্গে কলকাতার কাছে।

ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ধান চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। ওটা এ রাজ্যের সরকারের অন্যতম কৃতিত্ব। Land ceiling ও বর্গাদারকে চাষিস্বত্ত্ব দেওয়া, সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন ও তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা , সরকারের গত তিরিশ বছরের ক্ষমতায় থাকার ভিত্তি। এখন শিল্পের মন দিয়েছে। অার শিল্প গড়তে গেলে জমি তো লাগবেই।

এখন দারিদ্র্য, বেকারি দূর করতে গেলে এই ধরনের শিল্প, কলকারখানার প্রয়োজন। সিঙ্গুরে এই কারখানা হলে কমপক্ষে ১০০০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। বিধানসভায় একটা কমিটি অাছে; সেই কমিটির সবাই (তৃণমূল বাদে) পুণেতে Tataদের কর্মকাণ্ড দেখতে গিয়েছিল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (কংগ্রেস নেতা, অাগে MLA ছিল পরে MP হয়েছিল) উঁচুস্তরের নেতা, ওখানকার ব্যবস্থা দেখে খুশি। তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বারে বারে বলেছে যারা জায়গা দিয়েছে ও যত চাষ সংক্রান্ত শ্রমিক অাছে তাদের জন্য Tata ব্যবস্থা করবে। তাছাড়া যদি অালোচনার কিছু থাকে তাতেও উনি রাজি। গোঁয়ার্তুমি করে তৃণমূলই অলোচনায় বসতে চাইছে না। Tataর নানা কারনে সিঙ্গুরে জমি দরকার, এখানে না হলে অন্য রাজ্যে কারখানা খুলবে। এ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী, নিরূপম সেন বলেছেন যে যদি কেউ Tata দের কে বুঝিয়ে অন্য জায়গায় কারখানা খুলতে রাজি করাতে পারে তাহলে তাঁর সরকারের অাপত্তি নেই। প্রতিপক্ষের কেউ সেই ঝুঁকি নিতে নারাজ। SEZ (special economic zone) যা সব রাজ্য কেন্দ্রের নির্দেশে গঠন করতে চলেছে, তাতে চাষজমি ও থাকছে। যেখানে প্রচুর পরিমাণে জমি দরকার, সেখানে তো চাষজমির উপর হাত পড়বেই। দুর্গাপুর তৈরী হয়েছে চাষজমির উপর। SEZ তো গুজরাট, মধ্যপ্রদেশে হতে চলেছে। দিঘা হাওড়া রেললাইন করতে চাষজমি ছাড়াও বহু ঘর বাড়ি ভাঙতে হয়েছে। যারা একফসলি জমির মালিক তারা বছরে ৭ মাস বেকার থাকে, তাদের এক্ষেত্রে বেশি সুবিধা। দোফসলি বা তিনফসলি জমি যতটা সম্ভব কম নেওয়া হয়েছে। অার ইতিমধ্যে সিঙ্গুরের চাষিরা জমি হস্তান্তর করে টাকা নিয়ে নিয়েছে, দামও জমির দামের তিনগুন পেয়েছে। এমতাবস্থায় সুষ্ঠুভাবে, অালোচনার পথে না গিয়ে জোর করে এই প্রচেষ্টা বন্ধ করতে গেলে কারুর কোন লাভ হবে না, চাষিদের তো নয়েই।

No comments: